প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
চট্টগ্রামে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধরনের সংকটে পড়েছে সংগঠনটি। কমিটির ১৬৮ জন সদস্যের মধ্যে একযোগে ২২ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের এই বিশাল কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরদিন শুক্রবার (১৫ মে) সকালেই দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজসহ ২২ নেতার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
পদত্যাগী নেতাদের মূল অভিযোগসমূহ:
অযোগ্যদের প্রাধান্য: ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মূল্যায়ন না করে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।
অনৈতিক কর্মকাণ্ড: কমিটির প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি এবং মামলা বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পদত্যাগীরা।
আদর্শিক বিচ্যুতি: সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ জানান, স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার প্রত্যাশা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিলেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে তারা হতাশ।
পদত্যাগীদের মধ্যে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতারা রয়েছেন:
যুগ্ম আহ্বায়ক: সৈয়দ এহছানুল হক, কামরুল কায়েস।
যুগ্ম সদস্যসচিব: মো. সোহরাব চৌধুরী, হামিদুল ইসলাম, বদিউল আলম, মোহাম্মদ সরোয়ার আলম ও ইকবাল মাসুদ।
সম্পাদকীয় পদ: রকিবুল ইসলাম (সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ (দফতর সম্পাদক), মো. নুরুদ্দীন (সমাজকল্যাণ সম্পাদক)।
অন্যান্য: এছাড়া ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদসহ ১০ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শুদ্ধাচারের লড়াই ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের রাজনৈতিক বিবর্তনেরই একটি অংশ।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে চট্টগ্রাম ছিল ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবের অন্যতম কেন্দ্রস্থল। ১৯৩০ সালের মাস্টারদা সূর্যসেনের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন থেকে শুরু করে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মত্যাগ—চট্টগ্রামের রাজনীতি সবসময়ই ছিল আদর্শভিত্তিক। ১৯০০ সালের সেই ত্যাগের রাজনীতি থেকে ২০২৬ সালের ‘পদ বাণিজ্য’ ও ‘অর্থ উপার্জনের’ রাজনীতিতে এই রূপান্তর অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
স্বাধীনতা ও ছাত্র-যুব রাজনীতি (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম ছিল বীরত্বগাথার জনপদ। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এই মাটিকে গৌরবান্বিত করেছে। ১৯০০ সালের পর থেকে চট্টগ্রামের মানুষ সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিল।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও এনসিপির জন্ম: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ বা এনসিপি একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম বর্তমানে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক। ২০২৪-এর সেই ত্যাগের স্পৃহা থেকে ২০২৬ সালের এই দলীয় কোন্দল নাগরিক আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জকে স্পষ্ট করছে।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই লাঠিয়াল ও প্রথাগত রাজনীতি থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল জমানায় এসেও পদ এবং অর্থের লালসা রাজনীতির বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রামের এই ২২ নেতার পদত্যাগ মূলত ২০২৬ সালের মে মাসে ‘সুশাসন’ ও ‘স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির’ জন্য এক ধরণের প্রতিবাদ।
ইতিহাস সাক্ষী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি তার মূল আদর্শ ও কর্মীদের ত্যাগ ভুলে যায়, তবে তার পতন অবশ্যম্ভাবী। ১৯০০ সালের সেই বিপ্লবী চেতনার চাটগাঁয়ে ২০২৬ সালে এনসিপির এই ভাঙন মূলত দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য একটি সতর্কতা সংকেত। পদত্যাগী নেতারা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে কমিটির পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের এই মে মাসে এনসিপি যদি এই অভিযোগগুলো খতিয়ে না দেখে, তবে চট্টগ্রামের মাটিতে দলটির ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: ১. জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার পদত্যাগ সংক্রান্ত সংবাদ ও দপ্তর সম্পাদকের বিবৃতি (১৫ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: চট্টগ্রামের বিপ্লবী ইতিহাস ও নাগরিক আন্দোলনের বিবর্তন (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |